বগুড়ায় যমুনা চরের ফসলী জমি অপসারনের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

বগুড়া প্রতিনিধি:

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার বোহালী মৌজা নামক চর অপসারনের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় কৃষকরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে সংবাদ সম্মেলন পাঠ করেন বনীজ উদ্দিন নামের এক কৃষক। এসময় তিনি বলেন আমরা সারিয়াকান্দি উপজেলার যমুনা নদী ভাঙ্গণ কবলীত এলাকার সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। নানা দুর্যোগ ও প্রতিকুলতার সাথে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে আমাদেরকে বেঁচে থাকতে হয়। এছারা সরকারি নানা সুযোগসুবিধা থেকেও আমরা বরাবরই বঞ্চিত থাকি। কিন্তু বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের রক্তচক্ষু ও সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের হেয়ালীপনা, উদাসিনতা ও অসহযোগিতার কারনে আমাদেরকে দিন দিন চরম হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে।

এর উল্লেখযোগ্য কারণ হলো অপরিকল্পিতভাবে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে প্রশাসনের সহযোগিতায় বছরের পর বছর অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এর ফলে প্রতিবছর বিভিন্ন এলাকায় ভাঙ্গন ও ফসলী জমির ভাঙ্গনের ফলে আমরা চরম হতাশায় দারিদ্রতার সাথে যুদ্ধ করে দিনানীপাত করছি।

তিনি আরো বলেন আমরা সাধারণ মানুষ, বিভিন্ন খবরের কাগজ, টেলিভিশন সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যা জানতে পেরেছি তা হলো, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অপরিকল্পিত জরিপ, জেলা প্রশাসন কর্তৃক যাচাই বাছাই না করেই বালু মহালের অনুমোদন ও অনুমোদনের পর উপজেলা প্রশসনের সহযোগিতায় বছরের পর বছর অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। কিন্তু এর প্রতিকার আমরা কখনোই দেখতে পাইনি। বিভিন্ন সময় আমরা দেখেছি যে, বিভিন্ন বালুর পয়েন্টে প্রশাসনের অভিযান ও নাম মাত্র জরিমানা করতে কিন্তু দুদিন পর থেকে ওইসব বালুর পয়েন্ট পূণরায় চালু হয়ে যায়। এমন কর্মকান্ড দেখে বর্তমানে প্রশাসন নিয়েই আমাদের বড় সন্দেহ। কারন অভিযানের পর পূণরায় বালু উত্তোলন শুরু হলে পরবর্তীতে সেখানে আর কোন অভিযান হয়না। ইহা থেকে একটি বিষয় পরিস্কার হয়ে যায় যে, এসবে অবস্যই প্রশাসনের সহযোগিতা রয়েছে। আমরা বিভিন্ন সময় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করে কোনই প্রতিকার পাইনি। বরং অভিযোগের পর থেকে প্রভাবশালীদের দ্বারা হয়রানী ও নিপিরণ সহ্য করতে হয়েছে।

আমরা আরো জানতে পেরেছি যে, নদীর গতিপথ ঠিক রাখার জন্য যমুনা চরের বোহালী মৌজা থেকে ৫০ একর জায়গার বিট/ভিটি বালু অপসারণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। উক্ত প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উক্ত চরটিতে বছরের প্রায় ৭-৮ মাস বাদাম, ভুট্টা, আলু, তরমুজসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন হয়। এমতাবস্থায় আমাদের এমন ফসলী জমি কেনো অপসারণ করা হবে। এমন একটি কাজ আবার জনসার্থে কিভাবে হয়। প্রকৃতপক্ষে আসল ঘটনা হলো, শুধু বোহলী মৌজার চর নয়, এর চারিপাশে রয়েছে আওলাকান্দি, কালিয়ান, কামালপুর ও চন্দনবাইসা চর। তাহলে কয়েকটি চরের মাঝখানে অবস্থিত শুধুমাত্র বোহালী মৌজা থেকে মাত্র ৯৩ লক্ষ সিএফটি বালু উত্তোলন করে কিভাবে নদীর গতিপথ ঠিক রাখা যাবে। আমরা আরো দেখেছি যে, প্রতিবেদনে ও টেন্ডারে যেসব স্থান উল্লেখ করে লিজ দেয়া হয়, ঐসব স্থান থেকে কখনোই এক সিএফটি বালু উত্তোলন হয়না। প্রশাসনের এহেন কর্মকান্ড থেকে আমাদের মনে হয়, প্রশাসনের অস্বচ্ছতার কারনেই আমাদের মতো গরীব ও সাধারণ মানুষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

আমরা আরোও দাবি জানাই যে, হাইড্রোগাফিক জরিপ না করে অপরিকল্পিতভাবে মিথ্যা বানোয়াট ও কাল্পনিক নিজেদের মনগড়া প্রতিবেদন প্রত্যহার করে পূণরায় হাইড্রোগাফিক জরিপ ও অধিকতর তদন্ত করে স্বচ্ছ প্রতিবেদন দাখিলের মাধ্যমে নতুন করে বালু মহাল ঘোষনা করা হোক এবং পুণরায় জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে নতুন টেন্ডার আহ্বান করে অবৈধ্য ও অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন বন্ধ করে নদী ভাঙ্গন রোধ কল্পে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসনের প্রতি আমাদের অনুরোধ রইলো। তা নাহলে আগামীতে আমরা এই অঞ্চলে কোন ধরনের বালু উত্তোলন করতে দিবনা এতে এই অঞ্চলে আইন শৃঙ্খলার পরিস্থিতির বিঘ্ন ঘটতে পাড়ে। অর্থাৎ আমাদের ক্ষতি করে একটি স্বার্থন্বেসী মহল নিজেদের পকেট ভাড়ি করবে, আমরা তা কখনোই হতে দিবনা।

 

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Advertisement
Advertisement