নাজিরপুর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:
পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার ৩নং দেউলবাড়ী দোবড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এফ এম রফিকুল আলম বাবুল ওকতিপয় সদস্যদের বিরুদ্ধে উদেশ্যমুলকভাবে মিথ্যা, গুজব ও বানোয়াট তথ্য প্রচারে তুলে সংবাদ মাধ্যম সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানোর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
বুধবার (২৬ মার্চ) ১১টার সময় উপজেলার ৩নং দেউলবাড়ী দোবড়া ইউনিয়ন পরিষদ অফিস কার্যালয় লিখিত বক্তব্যে পাঠ করেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এফ এম রফিকুল আলম বাবুল।
এসময় তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আমার সাথে পরাজিত হয়ে একটি মহল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত মার্চ ২০২৫ ইং তারিখ জনগণের রায়ে নৌকা মার্কার পরাজিত শক্তিটি আমার বিররুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ তুলে একটি মানববন্ধন করেন। সেখানে ইউনিয়ন বিএনপি’র অন্যতম নেতা সেলিম রেজা আমার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে ৬ আগস্ট’২৫ হিন্দুদের জমি দখল, ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচির টাকা আত্মসাৎ, লোহার পুলের মালামাল আত্মসাৎ এবং জন্টুর বাজারের একটি ঘাটলা আত্মসাৎ করার অভিযোগ তুলে বক্তব্য প্রদান করেন। কয়েকটি মিডিয়ায় তা প্রচার হলে ঘটনাটি আমার পৃষ্টিগোচর হয়। আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের কোন সত্যতা নেই। অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আপনাদের অবগতির জন্য আমার বক্তব্য হলো- ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করার কারণে আমাকে প্রায় ১ যুগ পূর্বে দল থেকে বহিস্কার করা হয়। আমি আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ত না থাকায় দলীয় প্রভাবের অভিযোগটি স্বাভাবিকভাবেই মিথ্যা মাণিত হয়। পতিত সৈরাচার সরকার পতনের পরের দিন আমার বিরুদ্ধে হিন্দুদের সম্পত্তি দখলের অভিযোগের ঘটনাটি শুধু মিথ্যা ২৫ জুলাই থেকে ১৫ আগষ্ট পর্যন্ত অসুস্থজনিত কারণে আমি ঢাকায় ছিলাম। (বক্তার কাছে সম্পত্তি দখলের ভিডিও রয়েছে মর্মে তিনি বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন।) তাছাড়া যেহেতু প্রায় ১ যুগের মধ্যে আমি কোন সম্পত্তি ক্রয় করিনি। তাই সম্পত্তি দখলের বিষয়টি সম্পূর্ণ বানোয়াট ও মিথ্যা। ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচীর একাধিক প্রকল্প থেকে না কাজ করিয়ে টাকা আত্মসাতের বিষয়ে আমার বক্তব্য হলো- আমার বর্তমান পরিষদের প্রায় আড়াই বছরের মেয়াদে মাত্র একটি প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে আমি কাজ করিয়েছি। প্রকল্পের বর্তমান অবস্থার জিপিএস লোকেশনসহ ছবি তুলে পিআাইও অফিস সরেজমিন পরিদর্শন করে অর্থ ছাড় করেন। তাই কাজ না করে অর্থ আত্মসাতের কোন সুযোগ নেই। আয়রন ব্রিজের মালামাল আত্মত্মসাতের উল্লেখিত ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। কারণ, গাওখালী বাজার সংলগ্ন আয়রন ব্রিজটির মালামাল তুলে উপজেলা এলজিইডি অফিস থেকে মালামালের তালিকা প্রস্তুত করে স্বাক্ষর করার পর উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার আমার হেফাজতে রেখে আসেন। মালামালগুলো এখনো সুরক্ষিত রয়েছে।
ঋন্টুর বাজারের ঘাটলা নির্মাণের জন্য ১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত উপজেলা এলজিইডি অফিস থেকে দরপত্র (টেন্ডার) প্রক্রিয়া শেষ হয় নি। তাই ঘাটলা বা ঘাটলার টাকা আত্মসাতের ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ বাবুল বলেন,আনিত মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রচার ভিত্তিহীন ও উদ্যোশ্য প্রণাদিত এর সাথে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রচার যাহা দৃষ্টি কটুর ,আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই । ইউপি চেয়ারম্যান আরো বলেন, যারা মিথ্যা অপপ্রচার ও উদেশ্যমুলকভাবে, গুজব ও বানোয়াট তথ্য প্রচারে করছে ,তারা নৌকা মার্কার নির্বাচন করেছে। কাঞ্চন দাশ ইউপি সদস্য, বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও অপ্রপ্রচার করছে, অদৌ এর সাথে আমাদের কোন সর্ম্পক নেই। ৫ নং ইউপি সদস্য মোঃ শাহীন ,বলেন বিএনপি নেতা সেলিম তিনি আমার সাথে নির্বাচন করে পরাজয় বরন করার পর থেকে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ অপপ্রচার করে যাচ্ছে ,তার অভিযোগ মিথ্যা তীব্র নিন্দা জানাই। এসময় ইউপি সদস্য ও মহিলা সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্য উপস্থিত ছিলেন।